গরুর রোগ নির্নয় ও রোগের প্রতিকার

আমরা জানি যে মানুষের মতো গরুও রোগাক্রান্ত হয় । রোগাক্রান্ত গরুর দুধ, মাংস ও কর্মক্ষমতা কমে যায়। অনেক পশু যত্ন ও চিকিৎসার অভাবে মারাও যায় । ‍তাই গরু পালনকারীকে রোগ ও এর প্রতিকার সম্পর্কে ধারনা থাকা প্রয়োজন । তার আগে জেনে নেই রোগ কি, পশুর স্বাভাবিক সাস্থের বিচ্যুতিকে রোগ বলে । রোগাক্রান্ত পশুর খাদ্য গ্রহন কমে যায়, ঝিমাতে থাকবে, প্রসাব পায়খানার সমস্যা হবে, অনেক ক্ষেত্রে পশুর লোম খাড়া দেখায় ও তাপ বেড়ে যায় । সেক্ষেত্রে গবাদিপশুর রোগকে চার ভাগে ভাগ করা হয় । ১.সংক্রামক রোগ    ২.পরজীবীজনিত রোগ     ৩.অপুষ্টিজনিত রোগ    ও  ৪.অন্যান্য সাধারন রোগ
সংক্রামক রোগ...      যে সকল রোগক্রান্ত পশু হতে সুস্থ পশুর শরীরে প্রবেশ করে তাকে সংক্রামক রোগ বলে । ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার কারনে এই রোগ হয়ে থাকে । উল্লেখিত রোগের মধ্যে এই রোগটি সবচেয়ে বেশি মারাত্তক । সংক্রামক রোগের মধ্যে ভাইরাসজনিত রোগ পশুর বেশি ক্ষতি করে থাকে, এই রোগগুলোর মধ্যে হলো খুড়া রোগ, জলাতঙ্ক, গোবসন্ত ইত্যাদি । ব্যাকটিরিয়াজনিত সংক্রামক রোগের মধ্যে গবাদিপশুতে বাদলা, তড়কা, গলাফোলা, ওলান-ফোলা, বাছুরের নিউমোনিয়া ও ডিপথেরিয়া ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য । কয়েকটি রোগের কারন ও লক্ষন দেওয়া হলো;
খুড়া রোগঃ   সকল জোড়া খুড় বিশিষ্ট গবাদি পশু এ রোগে আক্রান্ত হয় । এটি একটি ভাইরাসজনিত রোগ । লালা, খাদ্য-দ্রব্য ও বাতাসের মাধ্যমে সুস্থ প্রানীরা আক্রান্ত হয় । এরোগের লক্ষনঃ প্রানীর খুড়ায়, মুখে ও জিহ্বায় ফোস্কার মতো দেখা যায় । পরে ফোস্কা থেকে ঘা হয় এবং মুখ দিয়ে লালা ঝরে । তাপমাত্রা বাড়ে ও খাবারে অরুচি হয় । ধীরে ধীরে পশু দুবল হয়ে পড়ে অনেক সময় পশু মারা যায় । কম বয়স্ক পশু বা বাছুরের মৃত্যুর হাড় বেশি । রোগ ব্যাবস্থাপনা নিচে দেওয়া হবে ।
বাদলাঃ গবাদি পশুর ছয় মাস থেকে দুই বছর বয়স পরযন্ত  এই রোগ হতে দেখা যায় । এটি একনি ব্যকটেরিয়াজনিত সংক্রামক রোগ । ক্ষতস্থান ও মলের মাধ্যমে এই রোগ ছড়ায় । এই রোগের লক্ষনগুলো হলো; ১. আক্রান্ত পশু খুড়িয়ে হাটে   ২. শরীরের বিভিন্ন স্থান ফুলে যায়   ৩. ফোলা স্থানে পচন ধরে ও কয়েক ঘন্টার মধ্যে আক্রান্ত পশু মারা যায়   ৪. আক্রান্ত স্থানে চাপ দিলে পচ পচ শব্দ হয়    ৫. শরীরের তাপমাত্রা (০৪­০-১০৫০ফা.) বেড়ে যায় । রোগ ব্যাবস্থাপনা নিচে দেওয়া হবে ।
তড়কাঃ এটা একটা ব্যকটেরিয়াজনিত রোগ । এটার লক্ষনঃ ১. তড়কা রোগ হলে পশু মাটিতে পড়ে যায়    ২. শরীরের তাপমাত্রা (১০৪০-১০৫০ফা.) বেড়ে যায় । মৃত পশুর নাক, মুখ ও পায়ুপথ দিয়ে রক্ত বের হয় । এরপর পরজীবি রোগ
পরজীবি রোগঃ যেসব ক্ষদ্র প্রানী বড় প্রানীর দেহে আশ্রয় নেয় তাদের পরজীবী প্রানী বলে, এরা আশ্রয়দাতার শরীর থেকে খাদ্য গ্রহন করে বেচে থাকে । যেমন: উকুন, মশা, মাছি, আটালি, মাইট ও কৃমি । কৃমি আশ্রয়দাতার দেহের । ভিতর অবস্থান করে আশ্রয়দাতার দেহ হতে পুষ্টি গ্রহন করে প্রনীকে অসুস্থ করে । কৃমির মধ্যে রয়েছে গোল কৃমি, পাতা কৃমি ও ফিতা কৃমি । এগুলো প্রত্যেকের আকৃতি পাতা, গোল ও ফিতার মতো হওয়ায় এগুলোর নাম এরকম রাখা হয়েছে । আর অন্যান্য পরজীবিরা প্রানীর দেহের উপরে অবস্থান করে শরীর হতে রক্ত শোষন করে প্রানীকে অসুস্থ করে ।
অপুষ্টিজনিত রোগঃ আমিষ, শরকরা, স্নেহ, ভিটামিন, খনিজ পদারথ, পানি ইত্যাদির মধ্যে যেকোনো একটার অভাবে গবাদিপশুর রোগ হলো তাকে অপুষ্টিজনিত রোগ বলে । মানুষ বা গবাদিপশুর শরীরে অন্যান্য খাদ্য উপাদানের তুলনায় ভিটামিন ও খনিজ পদারথ খুবই কম পরিমানে দরকার হয় । প্রধানত এই দুইটি পুষ্টি উপাদানের অভাবে প্রানী অপুষ্টিজনিত রোগে আক্রান্ত হয় । যেমন; দৃষ্টিশক্তি কমে যায়, ত্বক অমসৃন হয়, দেরিতে দাত উঠা, হাড় বেকে যাওয়া দুধ জ্বর ইত্যাদি । রোগ ব্যাবস্থাপনা নিচে দেওয়া হবে ।
অন্যান্য সাধারন রোগঃ  এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো পেট ফাপা, উদরাময় ও বদহজম ইত্যাদি । সাধারনত খাদ্যে অনিয়ম, পচা- বাসি খাদ্য ও দুষিত পানির কারনে এই রোগগুলো হয়ে থাকে । বাছুরের জন্য খাদ্য সরবরাহের সময় এসব দিক খেয়াল রাখা অবশ্যক ।
গরুর রোগ ব্যবস্থাপনাঃ পশুর রোগ প্রতেরোধ  ও নিয়ন্ত্রনের মাধ্যমে রোগ ব্যবস্থাপনা করা হয় । গরুর খামার বা গোয়ালে গরুর রোগ না হওয়ার জন্য গৃহিত উপায়সমুহকে রোগ ব্যবস্থাপনা বলে । খামার বা গোয়ালে রোগ দেখা দেওয়ার পর চিকিাৎসাসহ অন্যান্য গৃহিত পদক্ষেপের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ বা নিয়ন্ত্রনে
গরুর রোগ নির্নয় ও রোগের প্রতিকার গরুর রোগ নির্নয় ও রোগের প্রতিকার Reviewed by কৃষ on May 03, 2020 Rating: 5

32 comments:

  1. Very GOOD. Khub Valo hoyese......

    ReplyDelete

Powered by Blogger.