কিভাবে গরু সঠিক নিয়মে পালন করে লাভবান হবেন????

গরু মোটাতাজাকরন.... আমরা জানি অনেক ব্যবসার মধ্যে গরুর খামার একটি লাভজনক ব্যবসা । আমরা গরুর খামার করে সঠিক নিয়মে তা পালন ও পরিচর্যা করে প্রতি ‍ছয় মাস থেকে এক বৎসরে আমরা বাসায় থেকেই লাখ লাখ টাকা আয় করতে পারি । আর এর জন্য আমাদের বাইরে কোথাও যেতে হবেনা । গবাদিপশুর দুধ ও মাংস উৎপাদন লাভজনক করার জন্য সুবিধামতো পালন পদ্ধতি অনুসরন করা হয় । আমাদের দেশে সনাতন পদ্ধতিতে গরু পালন করা হয় । এখানে সুনির্দিষ্ট কোনো নিয়ম অনুসরন করা হয়না । ‍কিন্তু গরু মোটাতাজা করতে খুব কম সময়ে অধিক দুধ ও মাংস উৎপাদন করার জন্য কিছু নিয়ম অনুসরন করে আমরা গরু পালন করে কম সময়ে অধিক দুধ ও মাংস উৎপাদন করতে পারি । তাই আমাদের নিচের কিছু পদ্ধতি অনুসরন করতে হবে । আমরা যদি নিচের নিয়মগুলো সঠিকভাবে মেনে আমাদের খামার বা বাসার গরুকে পরিচর্যা করি তবে আমরা অবশ্যই সফল হবো এবং এর মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করতে পারবো । ১. গরুর জন্য সুনিদিষ্ট ঘড় নির্বাচন ২. গরু পরিচর্যা ৩. গরুর খাদ্য ব্যাবস্থাপনা ৪. গরুর রোগ ও তার প্রতিকার শুধুমাত্র এই চারটি বিষয় ভালোমতো পর্যবেক্ষন করে গরু পালন করলে আমরা খুব কম সময়ে দ্বীগুন লাভবান হতে পারি । এখন আমরা কিভাবে গরুর জন্য ঘড় নির্বাচন করবো তা জেনে নেই । ”” গোয়াল ঘড় তৈরির সময় আমাদের গরুর সংখ্যা বিবেচনায় নিতে হবে , গরুর সংখ্যা যদি ৯ বা তার কম হয়ে থাকে তবে এক সারির ঘড় করাটা ভালো হবে আর যদি ১০ বা তার বেশি হয় তবে দুই সারির ঘড় করুতে হবে । প্রতিটি গরুর জন্য ১.৫মি. * ২মি. জায়গায় ঘড় নির্মান করতে হবে । ঘড় তৈরির সময় প্রতিটি গরুর জন্য পথ, চারি, পশু দারানোর স্থান, নর্দমা ও পশু চলাচলের ব্যবস্থা রাখতে হবে । এখানে পশুকে সকল প্রকার খাদ্য যেমন কাচা ঘাস, খড়, খৈল ও পানি খাওয়ানোর জন্য ব্যবস্থা রাখতে হবে । আদর্শ গোয়াল ঘড় ... ১. গোয়াল ঘড় উচু স্থানে করতে হবে ২. পশুর সংখ্যাটি মনে রাখতে হবে ৩. গোয়ালঘড় মানুষের বাসস্থান থেকে দুরে করতে হবে ৪. গোয়ালঘড় বা খামার এলাকা থেকে সহজে পানি নিশ্কাষন ব্যবস্থা থাকতে হবে ৫. গোয়াল ঘড়ের চারপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে ৬. গোয়ালঘড় বা খামারে যেন সূর্যের আলো পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে ৭. বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে গোলঘড় তৈরি করলে বাজারের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থার কথা মাথায় রাখতে হবে । তাহলে এখন আদর্শ গোয়ালঘড় তৈরি করা হয়ে গেলে আমাদের ভাবতে হবে গরু পরিচর্যার কথা । পশুকে আদর যত্নের সাথে লালন পালন করতে হয় । পশুর সার্বিক যত্নকে পরিচর্যা বলে । দুধেল গাভির ‍দৈনিন্দিন পরিচর্যার অভাব হলে দুধ উৎপাদন কমে ‍যায় । বাছুর বাড়ন্ত পশু ও গর্ভবতি গরুর বিশেষ যত্ন নিতে হয় । গরু পরিচর্যা.... ১. নিয়মিত পশুর গোবর মুত্র ফেলে দিয়ে বাসস্থান পরিষ্কার রাখতে হয় ২.চারি থেকে বাসি খাদ্য ফেলে দিয়ে তাজা খাদ্য সরবরাহ করতে হবে ৩.প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিষ্কার পানি সরবরাহ করতে হবে ৪.গরুর শরির পরিষ্কার রাখার জন্য নিয়মিত গোসল ও প্রয়োজনে ব্রাশ করিয়ে দিতে হবে ৫.গরুকে প্রজনন, গর্ভকালীন ও প্রসবকালীন যত্ন নিতে হবে ৬.দুধ দোহনের সময় গাভিকে বিরক্ত করা যাবেনা ৭.বাছুরের বিশেষ যত্ন নিতে হবে এবং বাছুর যেন পরিমিত দুধ পায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে । গরুর খাদ্য ব্যবস্থাপনা...... গরুকে এমন খাদ্য দিতে হবে যাতে আমিষ, শর্করা, চর্বি, খনিজ পদার্থ ও ভিটামিনের পরিমান বেশি থাকে । খড়, কুড়া, ভুট্টা বা গম এর ভাঙা, ঝোলাগুড়, খৈল ইত্যাদিতে আমিষ, শর্করা ও চর্বি জাতীয় খাদ্য থাকে । আর সবুজ কাচা ঘাসে প্রচুর পরিমান ভিটামিন থাকে। গরু জাবর কাটা প্রানী হওয়ায় বেশি পরিমান আশ জাতীয় খাদ্য খেয়ে থাকে । এদের খাদ্য হিসেবে সবুজ ঘাস , খড় ও দানাদার খাদ্য সরবরাহ করা হয় । দেশি গরু কম দুধ উৎপাদন করায় অনেকে কোনো দানাদার খাদ্য সরবরাহ করেননা । কিন্তু উন্নত জাতের সংকর গাভী বেশি দুধ উৎপাদন করতে অবশ্যই দানাদার খাদ্য সরবরাহ করা হয় । গরুর খাদ্য ব্যবস্থাপনায় সবুজ ঘাস.... সবুজ ঘাসই গাভীর প্রধান খাদ্য, গাভিকে সবুজ ঘাস বেশি বেশি খাওলে দুধ উৎপাদন বেশি হয় ‍ । কিন্তু এদেশে চরনভুমি , খোলা মাঠ ও সবুজ মাঠ না থাকায় পশুর সবুজ ঘাসের অভাব লেগেই থাকে । তাই আমরা বাড়ির পাশে পতিত জমি, পুকুরপাড়, রাস্তা ও বাধের ধারে উন্নত জাতের ঘাস চাষ করে ঘাসের চাহিদা পূরন করতে পারি । উন্নত জাতের ঘাস হিসেবে আমরা নেপিয়ার, পারা, জার্মান, গিনি ও দেশি ঘাস চাষ করতে পারি । তাছাড়া গরুকে সবুজ ঘাসের পরিবর্তে গাছের পাতা যেমন- ইপিল-ইপিল, আম পাতা, কলা পাতা, কাঠাল পাতা, কুচুরিপানা ইত্যাদি খাওয়ানো যায় । খেড় ও ভুসি ,, আমাদের দেশে সবুজ ঘাস দিয়ে গরু পালন করা যায়না । তাই ঘাসের সাথে ধানের খড় সরবরাহ করতে হবে । উন্নত সংকর জাতের গাভীর ক্ষেত্রে প্রতি ১০০ কেজি দৈহিক ওজনের জন্য ১ কেজি খড় সরবরাহ করতে হয় । আমরা ধানের খড় সরবরাহ করে কেটে পানিতে ভিজিয়ে নরম করলে গরুর জন্য খেতে ও হজম করতে সুবিধা হয় । খড়কে এককভাবে না দিয়ে খড়ের সাথে খৈল, ভুসি, ভাতের মার, ভুট্টার গুড়ো ও ২০০-৩০০ গ্রাম ঝোলা গুড় খাওয়লে গরুর সাস্থ ভালো থাকে ও দুধ উৎপাদন বেড়ে যায় । দানাদার খাদ্য.... গরু মোটাতাজা করনে অনেক বড় ভুমিকা রাখে দানাদার খাদ্য,, গবাদিপশুর জন্য বিভিন্ন দানাশস্য ও এদের উপজাতসমুহকে দানাদার খাদ্য বলে । গাভিকে প্রতিদিন যে পরিমান দানাদার খাদ্য দিতে হয় তা দুই ভাগ করে সকালে ও বিকালে খাওতে হয় । একটি গাভি দৈনিক ১২ লিটার দুধ দিলে তাকে প্রতিদিন যে পরিমান দানাদার খাদ্য খাওয়াতে হয় .... তার প্রয়োজনীয় খাবারের ৪০% গমের ভুসি, ২০% চালের কুড়া, ২০% ভুট্টার গুড়া, ২০% সরিসার খৈল, খাওয়াতে হয় ।
কিভাবে গরু সঠিক নিয়মে পালন করে লাভবান হবেন???? কিভাবে গরু সঠিক নিয়মে পালন করে লাভবান হবেন???? Reviewed by কৃষ on May 03, 2020 Rating: 5

27 comments:

Powered by Blogger.